ফোর্বস ম্যাগাজিনের জন্য সারা পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ৫০ টি স্থান নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন ভ্রমন বিশেষজ্ঞ লরা বেগলি ব্লুম। ২০১৯ সালে বিগ সেভেন ট্রাভেল ওয়েবসাইট অবলম্বনে ব্লুমের লিখিত এই প্রতিবেদনটি অসংখ্য ভ্রমনপিয়াসী মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ভ্রমন মানে শুধু কতগুলো ফোটো তোলাতুলি নয় এরকম মনে করা লোকেদের অনেকেই লরা বেগলির তালিকা দেখে নিজ-নিজ বাজেট মোতাবেক বছর ভ্রমন তালিকা প্রস্তুত করেন। লরা বেগলির উল্লেখিত স্থানগুলোর উপরে অনলাইন অনুসন্ধান চালিয়ে একটি দীর্ঘ প্রতিবেদন তৈরি করেছে জীবনজয়ী টিম। মোট ১০ টি পর্বে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হবে।
এখানে পড়ুন: পর্ব এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ, ও ছয়
পর্ব আট
২৭. লন্ডন, ইংল্যান্ড
বর্তমান লন্ডন বহুসংস্কৃতির মিলনক্ষেত্র। পৃথিবীর সব জাতির মানুষ এই শহরে আছে, সংখ্যায় কম বা বেশি। প্রায় দুই হাজার বছরের পুরনো ঐতিহাসিক স্থাপনা থেকে শুরু করে বিপুল সংগ্রহসমৃদ্ধ মিউজিয়াম ও চিত্রশালাগুলোর নাম বলে শেষ করা যাবে না। একবার গুগলে খুঁজে দেখুন। এই বক্তব্যের সত্যতা পাবেন। টেমস নদীর বুকে নৌকা ভ্রমণ থেকে শুরু করে সান্ধ্যজীবন উপভোগের শত আয়োজন রয়েছে লন্ডনে। ক্লাব, পাব, নাইট ক্লাব থেকে শুরু করে থিয়েটার, সিনেমা, যার যা পছন্দ। লন্ডনের পার্কগুলোর কথাও উল্লেখ না করলে নয়।
২৮. রিও ডি জেনিরো, ব্রাজিল
সাম্বা নাচের ভূমিতে আপনাকে স্বাগত। ব্রাজিল শুধু ফুটবল নয়, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে ভরপুর এক দেশ। এই দেশের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ সমুদ্রতীরবর্তী শহর রিও ডি জেনিরো। দুই বাহু প্রসারিত যিশু খ্রিষ্টের সুউচ্চ ভাস্কর্য ক্রাইস্ট দ্য রিডিমার এই শহরের অন্যতম আকর্ষণ। কোপাকাবানা ও ইপানেমা সমুদ্রতট, গ্রানাইট পাথরের সুগারলোফ পাহাড় রিওর সারা দুনিয়ার পর্যটকের টান আরও প্রবল করে।
আর রিও কার্নিভালের কথা জীবনজয়ী বলার অনেক আগেই আপনি শুনেছেন বা টিভিতে-ইন্টারনেটে দেখে ফেলেছেন। প্রতিবছর ফেব্রুয়ারির শেষ দিকের এই কার্নিভালে প্রতিদিন প্রায় দুই মিলিয়ন মানুষ সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে রাস্তায় নামে। রঙ-রূপ-হাস্য-লাস্যের ঝলকে-চমকে রিও কার্নিভাল নিজেই নিজের তুলনা।
২৯. পেট্রা, জর্ডান
দক্ষিণ জর্ডানে অবস্থিত প্রাচীন নাবাতীয় সাম্রাজ্যের আমলের নগরী পেট্রা সুন্দর লালচে পাথর ও খাড়া গিরিখাত দ্বারা পরিবেষ্টিত। এই শহরের বিস্ময়কর সব স্থাপত্য জর্ডানের অন্যতম সম্পদ। পেট্রা শুধু জর্ডানের নয়, বিশ্বের অন্যতম ঐতিহাসিক পর্যটনকেন্দ্র। এখানে পাথরের পাহাড় খোদাই করে নির্মিত সেখানকার মন্দির ও সমাধিগুলো এক অনন্য সৌন্দর্যের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে "আল-খাজনেহ" বা ট্রেজারি এবং "মনাস্ট্রি" দর্শকদের মুগ্ধ করে। ধারণা করা হতো, "আল-খাজনেহ"-তে নাবাতীয়রা তাদের গুপ্তধন লুকিয়ে রেখে গেছে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে জানা যায়, এটি ছিল নাবাতীয় রাজপরিবারের সমাধি। পেট্রায় সূর্যাস্তের সময় লালচে পাথরের প্রতিফলিত রঙ এক জাদুকরী দৃশ্য তৈরি করে। ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য পেট্রা এক স্বপ্নের স্থান।
৩০. হংকং
বিশ্বখ্যাত আকাশছোঁয়া অট্টালিকা ও বৈচিত্র্যময় খাবারের জন্য পরিচিত হংকং সম্পর্কে অনেকেই জানে না যে, এর ৭০% অঞ্চলই পাহাড় ও সবুজ পার্কে ঘেরা। রঙিন খেলার মাঠ ও সাই-ফাই মুভির মতো অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকগুলো হংকংকে এক অনন্য বৈশিষ্ট্য দিয়েছে।
আসলে হংকং শুধু আধুনিক শহরের ঝলমলে আলোতেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি প্রকৃতি ও প্রযুক্তির এক দুর্দান্ত সংমিশ্রণ। ভিক্টোরিয়া হারবারের পাশে দাঁড়িয়ে আকাশছোঁয়া বিল্ডিংগুলোর আলোকসজ্জা উপভোগ করা এক অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা। শহরজুড়ে অসংখ্য স্ট্রিট ফুড স্টল, যেখানে চীনা, ক্যান্টোনিজ ও আন্তর্জাতিক খাবারের স্বাদ পাওয়া যায়। ডিজনিল্যান্ড ও ওশান পার্ক পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর দারুণ জায়গা। আর যদি কেউ প্রকৃতি ভালোবাসেন, তাহলে লান্তাও দ্বীপের সবুজ পাহাড় বা ড্রাগনস ব্যাক ট্রেইল নিঃসন্দেহে মুগ্ধ করবে। হংকং এমন একটি গন্তব্য, যেখানে আধুনিকতা, সংস্কৃতি এবং প্রকৃতি একসঙ্গে হাত ধরাধরি করে চলে। এটি একবার ঘুরে দেখার মতো বটে!